ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৫ ১৪৩০

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফুলের চাষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফুলের চাষ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফুলের চাষ

পহেলা ফাল্গুন, বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদি ও দিঘলদিসহ আট থেকে দশটি গ্রামে জমে উঠেছে ফুলের বিকিকিনি। দূর-দূরান্ত থেকে ফুলপ্রেমীরা আসছেন সাবদি ও দিঘলদিসহ বিভিন্ন ফুল চাষের গ্রামে। এ যেন সাজানো পরিপাটি এক ফুলের গ্রাম। এসব গ্রামে এখন বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। যার সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায়। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয় এখানে। তবে ফেব্রুয়ারি মাস ফুল বিক্রির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবেই টার্গেট করেন এখানকার ফুলচাষিরা।

সরেজমিনে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী সাবদি ও দিঘলদিসহ বিভিন্ন গ্রামে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেড়শ থেকে দুইশ পরিবার। গ্রামগুলো এখন ফুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সাবদিসহ ফুলের কয়েকটি গ্রাম সাধারণ আদি ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি অবস্থিত। রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ শহরসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন ছুটে আসেন ফুলপ্রেমীরা।

ফুলচাষিরা জানান, ফুল ব্যবসায়ীরা সাবদি ও দিঘলদিসহ ফুলের চাষাবাদের গ্রাম থেকে বিভিন্ন ধরনের ফুল পাইকারি কিনে ঢাকার শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ও নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুল বিক্রি করে থাকেন। ২৫-৩০ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে এখানে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, বন্দরের আট-দশটি গ্রামে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে নানা ধরনের ফুল চাষাবাদ হচ্ছে। এবার পাঁচ কোটি থেকে ছয় কোটি টাকার ফুল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হবে।

সাবদি গ্রামের ফুলচাষ করছেন এমদাদ হোসেন ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার। তারা ২০-২৫ বছর ধরে এ গ্রামে বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করে আসছেন। ফুল বিক্রির আয় দিয়েই তাদের সংসার চলে। নাজমা আক্তার বলেন, এবার প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফুলের জমি হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই ফুল বেচা-বিক্রি শুরু হয়। যা একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। ডালিয়া, চেরী, জাপানি, গেন্দা, জিপাসি, ক্যালেন ডোলা, বলগেন্দা, জবা, আলমেন্দা, কাঠমালতী (কাঠ বেলী), মামফুল, অর্কিড ও বেলিসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষাবাদ হয়ে থাকে বলে তিনি জানান। ফুলচাষি মো. হাসান বলেন, ১৪ ও ২১ ফেব্রুয়ারি সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয়। এখানকার ফুল ঢাকার শাহবাগে নিয়ে বিক্রি করা হয়। দিঘলদি গ্রামের ফুলচাষি স্বপন কুমার রায় বলেন, এবার বৃষ্টির কারণে তার জমির ফুলের চারা দুবার নষ্ট হয়ে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি ২০ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের ও জাতের ফুলের চাষাবাদ করে আসছেন। তিনি এ বছর তিন কানি জমিতে ফুলের চাষ করেছেন। ফুলচাষি স্বপন কুমার রায়ের দাবি, প্রতিবছর এসব গ্রাম থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়। তিনি প্রতিদিন দুই থেকে তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি হয়ে থাকে। স্বপন কুমার রায় অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে ফুল চাষাবাদ করেন। প্রতিবছর গেন্দা ও কাঠ মালতী ফুল সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। ফুলগুলো বছরের সব সময় পাওয়া যায়। এভাবেই সাবদি, দিঘলদি ও মাধবপাশাসহ বিভিন্ন গ্রামে ফুল চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে বহু পরিবার।

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়