ঢাকা, বুধবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩১

লায়লাতুল কদরের সুসংবাদ প্রাপ্তির ঘটনা, কারণ ও ফজিলত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ২ এপ্রিল ২০২৪  

লায়লাতুল কদরের সুসংবাদ প্রাপ্তির ঘটনা, কারণ ও ফজিলত

লায়লাতুল কদরের সুসংবাদ প্রাপ্তির ঘটনা, কারণ ও ফজিলত

বিশ্বনবী রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনি ইসরায়েলের একজন মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি এক হাজার বছর দীর্ঘ হায়াত পেয়েছিলেন। দীর্ঘ এ আয়ুষ্কাল তিনি দিনে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে রত থাকতেন এবং রাতে ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন’।

আলী ইবনে উরওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাধারণ) বনি ইসরাইলের ৪ জন আবেদ সম্পর্কে বলছিলেন, ‘তারা ৮০ বছর ধরে অনবরত আল্লাহর ইবাদত করছিলেন। এর মধ্যে মুহূর্ত সময়ের জন্যও ইবাদত থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। বিখ্যাত এই ৪ জন আবেদ হলেন আল্লাহর নবী জাকারিয়া (আ.), আইয়ুব (আ.), হিজকিল ইবনে আজুজ (আ.) এবং ইউশা ইবনে নুহ (আ.)’।

এ কথা শুনে সাহাবারা খুব নিরাশ হয়ে পড়লেন। তারা বললেন, আমাদের বয়স পূর্বের উম্মতদেরর তুলনায় খুবই কম। আমরা কীভাবে তাদের মতো নেকআমল করে সওয়াব অর্জন করব। এ সময় জিবরাইল (আ.) এসে বললেন, ‘হে মুহাম্মাদ (সা.)! আপনার উম্মতরা এ কথা শুনে নিরাশ? তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন’। এরপর সূরা আল কদর পাঠ করা হয়। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ১৮, পৃষ্ঠা: ২২৩)

সূরা আল কদর: বাংলা উচ্চারণসহ অর্থ

সূরা আল কদর (আরবি: سورة القدر‎‎) পবিত্র কোরআনুল কারিমের ৯৭ নম্বর সূরা, এর আয়াত সংখ্যা ৫টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১। আল কদর সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আরবি: بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

(১) إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ

উচ্চারণ: ‘ইন্না-আনযালনা-হু ফী লাইলাতিল ক্বদর’।

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি এটা  ক্বদর রাতে নাযিল করলাম’। 

(২) وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ

উচ্চারণ: ‘অমা-আদরা-কা মা-লাইলাতুল ক্বদর’।

অর্থ: ‘আর আপনি কি জানেন, ক্বদর রাত কি’?

(৩) لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ

উচ্চারণ: ‘লাইলাতুল ক্বদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর’।

অর্থ: ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ’।

(৪) تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ

উচ্চারণ: ‘তানাযযালুল মালা-য়িকাতু অররুহু ফীহা-বিইযনি রব্বিহিম মিন কুল্লি আমর’।

অর্থ: ‘সে রাতে প্রত্যেক বরকত পূর্ণ বিষয় নিয়ে ফেরেশতারা ও রূহ অবতীর্ণ হয়, স্বীয় রবের নির্দেশে’।  

(৫) سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ

উচ্চারণ: ‘সালা-মুন হিয়া হাত্তা-মাতলা‘ইল ফাজর।

অর্থ: ‘সে রাতে সম্পূর্ণ শান্তি, ফজর পর্যন্ত বিরাজিত থাকে’।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়