ঢাকা, বুধবার   ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ৪ ১৪৩১

লাল বিবির কবর

হাবিবুস সাকেরিন

প্রকাশিত: ১১:২০, ১৩ আগস্ট ২০২৩  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন মুঘল সম্রাজ্ঞী শাহজাদী লাল বিবি। তামপাট, রংপুর। আর কবরটি আছে অবহেলিতভাবে।

মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (রাজত্বকাল ১৮০৬ খৃস্টাব্দ -১৮৩৭ খৃস্টাব্দ) এর স্ত্রী ও শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর (রাজত্বকাল ১৮৩৭ খৃস্টাব্দ -১৮৫৭ খৃস্টাব্দ) এর মা।

তার অন্য পরিচয় হলো- তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ; কথিত ফকির, সন্ন্যাসী ও প্রজা বিদ্রোহী আন্দোলনের নেতা নবাব নূর উদ্দিন বাকের মুহাম্মদ জং এর কন্যা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নবাব নূর উদ্দিন বাকের মুহাম্মদ জং হলেন বাংলার ঐতিহাসিক চরিত্র ‘নূরলদীন’। সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ এর নূরলদীনই হলেন এই বাকের মুহাম্মদ।

বাকের মুহাম্মদ ছিলেন মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম (রাজত্বকাল ১৭৬০ খৃস্টাব্দ -১৮০৬ খৃস্টাব্দ) এর আপন চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি।

শহিদ নবাব নূর উদ্দিন বাকের মুহাম্মদ জং ১৭৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান লালমনিরহাট জেলার মোগলহাটে ইংরেজ আক্রমণের শিকার হন। আহত অবস্থায় বাকের মুহাম্মদকে তার নিজ গ্রাম বর্তমান রংপুর জেলার মিঠাপুকুরের ফুলচৌকিতে নিয়ে আসা হয়। পরে ফুলচৌকি গ্রামে ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। এর কিছুকাল পরে ইংরেজ দখলদাররা মুঘল সম্রাটের উপাধি বাতিল করে সম্রাট ও তার পরিবারকে শাহী বালাখানা থেকে বের করে দেয়।

উভয় ঘটনায় শাহজাদী লাল বিবি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠেন, ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। তিনি তার পিতৃগৃহ রংপুরের মিঠাপুকুরের ফুলচৌকি এলেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে গোপনে যোগাযোগ করতেন এবং কর্ম পরিকল্পনা নির্ধারণ করতেন।

সম্ভবত- ১৮৩২-৩৪ সালের দিকে শাহজাদী লাল বিবি ফুলচৌকি গ্রামে আসেন। তিনি ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মরিচানন্দ গিরিধরের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হওয়ার জন্য একদিন রংপুরের মাহিগঞ্জের তামপাট এলাকায় যাচ্ছিলেন। এমন সময় টাটি শেখ খয়রুদ্দি ও লাহিড়ীর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইংরেজ সেনারা তার উপর আক্রমণ চালায় ও গুলি করে হত্যা করে। যতদূর জানা যায়, তার সাথে মারা যান রাজা ভবানী পাঠকও।

যেখানে শাহজাদী লাল বিবিকে হত্যা করা হয়, সে জায়গাটি বর্তমানে সমর দিঘী নামে পরিচিত। তার কবরও রয়েছে সেখানে। তার কবর ঘেঁষেই রয়েছে সমর দীঘিটি, যদিও দীঘিটি মজে গেছে অনেকখানি। শাহজাদী লাল বিবির কবরটি দেখে প্রথম দর্শনে পুরনো ভাঙা ইটের স্তূপ মনে করে ভুল হতে পারে; অযত্ন অবহেলায় বিলীন হয়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। রংপুর এর লালবাগ হাট ওনার নামানুসারে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়