ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩১

যত বাধা আসুক, দেশকে এগিয়ে নেব : শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৬, ১৮ মে ২০২৪  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার লক্ষ্য দেশকে এগিয়ে নেওয়া।শুক্রবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ২২তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

নতুন অর্থবছরের বাজেট ৬ জুন ঘোষণা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাজেট আমরা ঠিকমতো দিতে পারব, বাস্তবায়নও করব। দেশি-বিদেশি নানা কারণে জিডিপি কিছুটা হয়তো কমবে, সেটা পরবর্তীতে উত্তরণ করতে পারব, সে আত্মবিশ্বাসও আছে।'দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, 'গ্রামের অর্থনীতি পাল্টে গেছে। যারা এক বেলা ভাত খেতে পারত না, চার বেলা খায়। হাটবারের বাইরে কিছু পাওয়া যেত না, এখন সুপার মার্কেট হয়েছে। আমাদের গ্রামের বাজার পাটগাতি থেকে ঈদের আগে ২০০ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি যত বেশি মজবুত হচ্ছে, শিল্প কলকারখানা বাড়ছে।'প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আজকে (শুক্রবার) অর্থনীতি সমিতির প্রোগ্রামে আসছি। এখানে অনেকের অনেক বড় বড় ডিগ্রি আছে। আমার কিন্তু তা নেই। আমি  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেছি। অর্থনীতির সূক্ষ্ণ ও জটিল বিষয়াদি আপনাদের মতো আমি বুঝি না। এতটুকু বুঝি কীভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়। কীভাবে মানুষের উপকার হবে। আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকেই আমি এটা শেখেছি। তিনি তো বেশিরভাগ সময়ই জেলে থাকতেন। যতক্ষণ বাইরে থাকতেন, আমাদের সঙ্গে গল্প করতেন- কীভাবে তিনি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান, কীভাবে গ্রামগুলোকে সাজাবেন।'

তিনি আরও বলেন, 'মিলিটারি সরকার যখন আসে তখন দুর্নীতি তাদের নীতি হয়ে যায়। পীড়াপীড়ি কালচার কিন্তু মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান থেকে শুরু। কিছু এলিট শ্রেণি তৈরি করা, তাদের কিছু সুযোগ দিয়ে দেওয়া, তারা জানত যে লোন নিলে তো সব দিতে হবে না, মাপ হয়ে যাবে। এই চিন্তা-ভাবনায় আমাদের দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আমরা আসার পরে সে জায়গা থেকে মানুষকে সরিয়ে আনতে চেষ্টা করেছি। অনেকটাই সফল হয়েছি। জাতির পিতা চেয়েছিলেন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। চেয়েছিলেন এ দেশে মানুষ অন্তত দুই বেলা দুই মুঠো খেয়ে বাঁচবে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগ পাবে। উন্নত জীবন পাবে, এটাই ছিল তার স্বপ্ন।'

শেখ হাসিনা বলেন, 'ছিয়াত্তর সালে খুনি মোশতাকরা যখন ক্ষমতা দখল করে এরপর থেকে মাথাপিছু আয় ক্রমাগত কমেছে। ছিয়াত্তর থেকে একানব্বই পর্যন্ত মাত্র ৬ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিল। জাতির পিতা যদি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ৯৭ ডলার থেকে শুরু করে ২৭৭ ডলারে উন্নতি করতে পারে, তাহলে কেন কমে গেল মাথাপিছু আয়? একজন রাজনীতিবিদের মানুষের কাছে একটা ওয়াদা থাকে, একটা পরিকল্পনা থাকে দেশকে নিয়ে, এই দেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যাব। যদি কোনো পরিকল্পনা না থাকে তাহলে সে দেশ এগোতে পারে না। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। মানুষ কী পেল, সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে, যা আমি শিখেছিলাম আমার বাবার কাছ থেকে।'

তিনি বলেন, 'পঁচাত্তরের পর গবেষণা ছিল না। মিলিটারি ডিক্টেররা ক্ষমতায়, ক্ষমতাকে কীভাবে নিষ্কণ্টক করবে, মানুষের ভোট চুরি আর ক্ষমতাকে ভোগ করা, ভোগ করাকে তারা ভালো বুঝত। প্যারিস থেকে কী আসবে, ইতালি থেকে কী আসবে, এগুলো নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিল।'

কোনো বিদেশি পরামর্শে নয়, দেশের মাটি ও মানুষের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা ও নীতিমালা করার পরামর্শ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'আমি অর্থনীতিবিদদের কাছে এটাই বলতে চাই, দেশের মাটি-মানুষ তাদের কথা চিন্তা করে আপনাদের নীতিমালা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। কেউ একজন দু'একদিনের জন্য দেশে এসে আমাদের উপদেশ দিয়ে যাবে, ওই উপদেশ আমাদের কাজে লাগবে না। কাজে লাগবে নিজের চোখে দেখা এবং মানুষের জন্য করা। তবে হঁ্যা বাইরে থেকে আমরা শিখব, করার জন্য নিজের দেশ ও মানুষকে দেখে করব। আমাদের কী সম্পদ আছে সেটা দেখে করব।'

ছিয়ানব্বই সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমার লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে হবে। বেসরকারি খাত যত বেশি গড়ে উঠবে, তত বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেই পদক্ষেপটি আমরা নিয়েছিলাম। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদন করা, রপ্তানিকে বহুমুখীকরণ করা, সেদিক থেকেও আমরা আমাদের অনেক কিছু করার আছে। আমি অর্থনীতিবিদদের কাছে চাইব, আমাদের আর কী কী পণ্য যেগুলো রপ্তানিমুখী করা যায়। প্রত্যেকটা রাষ্ট্রদূতকে নির্দেশনা দিয়েছে কোন দেশে কোন জিনিসের চাহিদা আছে সেগুলো খুঁজে বের করা। এগুলো যাতে আমরা উৎপাদন করে রপ্তানি করতে পারি।'

কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''আমরা আমাদের গ্রামগুলোকে শহরে রূপান্তর করার জন্য 'আমার গ্রাম আমার শহর' অর্থাৎ গ্রামের মানুষ তার নাগরিক সুবিধার সবকিছু সেখানে বসেই পাবে, আমরা সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের ঘোষণা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ করব। আমরা সেটি করেছি। ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ওয়াইফাই কানেকশন পৌঁছে দিয়েছি।''

সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বস্নু ইকোনমিকে আমাদের অর্থনীতির কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট আমি করে দিয়েছি। এটা নিয়ে গবেষণা হবে।'

তৃণমূল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য রেখে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা যে শিল্পায়ন করতে চাই, সেখানে আমরা সুবিধা দিচ্ছি। আমাদের শুধু রপ্তানি করা না, নিজেদের বাজার তৈরি করতে হবে। এজন্য আমার মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হবে। ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে গেলে কর্মসংস্থানে ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি সেখান থেকে বিনা জামাতে যে কোনো যুবক দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারে। চাকরির পিছনে না ছুটে নিজেই চাকরি দিতে পারবে সেভাবে যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে সরকার।'

'জানতাম না এত বড় দায়িত্ব নিতে হবে'

এদিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শুক্রবার গণভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় আগে দেশে ফেরা হয়েছিল বলেই, বঙ্গবন্ধু যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। তবে দেশে এসে দলের কান্ডারির দায়িত্ব নিতে হবে, সেটি তার ভাবনায় ছিল না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, 'আজকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেই, কিন্তু অন্তত এটুকু বলতে পারি, তার বাংলাদেশ কিছুটা হলেও তিনি যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন এবং যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন, কিছুটা হলেও সেটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।'

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের আগে বিদেশ চলে যাওয়ার ঘটনাও উঠে আসে তার কথায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আশা করেছিলাম আমরা খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব। কিন্তু সেই ফিরে আসা আর হয়নি।'

আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি জানতাম না যে, আমাকে এত বড় একটা দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমি কখনো এটা ভাবতে পারিনি।'

শেখ হাসিনার বক্তব্যে উঠে আসে নির্বাসিত জীবনের পারিবারিক সংকট-যন্ত্রণার কথা। তিনি বলেন, 'ছোট বোন শেখ রেহানার বিয়েতে থাকতে পারিনি। কিন্তু যখন তার বাচ্চা হবে, মিসেস গান্ধী (ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী) আবার ক্ষমতায় এলেন, তিনি সব ব্যবস্থা করে দিলেন, আমি গেলাম। এরপর আবার দিলিস্নতে ফেরত আসলাম। তখন আমাকে লন্ডন থেকে আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবুর রহমান টেলিফোন করে বললেন আপনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। আমি তাকে বললাম আমি তো আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে চাই না, আমাকে কেন করবে? আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আছে।'

১৯৮১ সালের ১৭ মে'র ঘটনা বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, 'ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সেদিন সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়েছিল। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বক্তব্য রাখলাম, সব থেকে বড় কথা হলো আমি যখন জার্মানিতে যাই, তখন কামাল, জামাল, রোজি, খুকি সবাই বিমানবন্দরে ছিল। আমি যখন ফিরে আসলাম হাজার হাজার মানুষ, কিন্তু আমি পেলাম বনানীতে সারি সারি কবর। ৩২ নম্বরে আমরা মিলাদ পড়তে চাইলাম, আমাকে ঢুকতে দেয়নি জিয়াউর রহমান। উল্টো বলেছিল বাড়ি দেবে, গাড়ি দেবে, সব দেবে। বলেছিলাম তার কাছ থেকে কিছু নেব না। খুনির কাছ থেকে আমি কিছু নিতে পারি না।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি যখন দিলিস্নতে ছিলাম, সেখানে গিয়ে জিয়াউর রহমান আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল, তার স্ত্রীও দেখা করতে চেয়েছিল, আমি দেখা করি নাই। লন্ডনে যখন তখনও দেখা করতে চেয়েছিল, আমরা দেখা করিনি। আমি যখন আসলাম ৩২ নম্বরে ঢুকতে দেবে না, উল্টো বাড়ি-গাড়ি সাদবে, সেটাতো আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।'

দেশে ফিরে কোথায় উঠবেন বা থাকবেন সেটা জানা ছিল না শেখ হাসিনার। সেই অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'শুধু আমার পরার কাপড়-চোপড়, দুটো সু্যটকেস ও পুতুলকে (মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল) নিয়ে আমি চলে এসেছি। তারপর এ যাত্রা শুরু। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও দলকে গোছানোর চেষ্টা করেছি।'

কথা বলতে বলতে আপস্নুত হয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, আমার সব শক্তি-সাহস মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। উনিতো কোনোদিন বিশ্বাস করেননি বাঙালি তাকে হত্যা করতে পারবে। এই ঘাতকের দল মনে করেছিল একটি পরিবারকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করবে। শুধু পরিবার না, আমাদের যারা আত্মীয়-স্বজন আছে তাদেরকেও।'

৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের ইতিহাসও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'যারা স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, সংগ্রাম করলেন সারাটা জীবন, সেই বাংলার মাটিতে, বাঙালির হাতেই তাদের মৃতু্যবরণ করতে হলো। তাও স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা, যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায়।'

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের কথা বর্ণনা করে তিনি বলেন, 'আমার তো বিচার চাইবার অধিকার ছিল না। মামলা করতে গিয়েছি, মামলা নেবে না, করা যাবে না। কারণ খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়েছে, তাদের হিরো বানানো হয়েছিল।'

১৯৭৫-পরবর্তী যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী-এমপি-উপদেষ্টা হয়েছিল বলে উলেস্নখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধ যারা করছেন তারই অপরাধী হয়ে গেল। যারা বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যা করেছিল তারাই ক্ষমতায়। ওই অবস্থায় দেশে ফিরেছিলাম। আমার তো কিছুই ছিল না। একটা বিশ্বাস ছিল দেশের জনগণ ও আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী। এরপর লড়াই-সংগ্রাম করে এটুকু বলতে পারি পঞ্চমবারের মতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এসেছে।'

আজকের বাংলাদেশ 'বদলে যাওয়া বাংলাদেশ' মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মানুষের যদি রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা না থাকে, দেশপ্রেম না থাকে, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় না থাকে, তাহলে সেটা এগোতে পারে না।'

আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত থাকায় করোনাভাইরাসহ সব দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'দলের প্রত্যেকটা সংগঠন জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সমানতালে কাজ করেছে বলেই আমরা এ সাফল্যটা দেখাতে পেরেছি। তাছাড়া কোনোভাবে সম্ভব ছিল না। আওয়ামী লীগ সংগঠন ছাড়া দেশের জনগণের জন্য আত্মত্যাগ অন্য কেউ করে না।'

আওয়ামী লীগের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, কারফিউ, প্রতি রাতে মার্শাল ল, দেশের মানুষের কোনো আশা নেই, শুধু হতাশা। এই হতাশ জাতিকে টেনে তোলা যায় না। তাদের মাঝে আশার আলো জাগাতে হয়, ভবিষ্যৎ দেখাতে হয়, উন্নত জীবনের চিত্র তুলে ধরতে হয়। তবেই মানুষকে নিয়ে কাজ করা যায়। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি। সেদিন ফিরে এসেছিলাম, এতবড় দল পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা ছিল না, যখন ছাত্রলীগ করার সময় নেতা হওয়ার চেষ্টা করি নাই। দলের প্রয়োজনে যে দায়িত্ব দিয়েছে সেটাই পালন করেছি। কিন্তু যখন এ দায়িত্ব (আওয়ামী লীগ সভাপতি) পেলাম, এটা বড় দায়িত্ব।'

তিনি আরও বলেন, 'আজকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে শক্তিশালী বড় সংগঠন। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য দল আওয়ামী লীগ। প্রতিবার চক্রান্ত হয়, সেটা মোকাবিলা করে আমরা বেরিয়ে আসি। আমাদের তা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে যে অধিকারগুলো আদায় করেছিল, সেটা আমরা সমুন্নত করতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।'

সংগঠনকে শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আর যেন যুদ্ধাপরাধী, খুনিরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, এই ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।'

এর আগে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনাকে। এছাড়াও শুভেচ্ছা জানান সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

আরও পড়ুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়