ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১১ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

জিয়া হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কে?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৬, ১৪ মার্চ ২০২২  

জিয়াউর রহমান

জিয়াউর রহমান

জিয়া হত্যাকাণ্ডে গোপন বিচারের মাধ্যমে জেনারেল মঞ্জুর সহ ১৩ সামরিক কর্মকর্তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। বিচারের আওতায় না এনে সরাসরি হত্যা এবং তড়িঘড়ি করে গঠিত কোর্ট মার্শালে ‘প্রসহনমূলক’ বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া ১৩ জনের ১২ জনই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় রাষ্ট্রপতির মিলিটারি সেক্রেটারির দায়িত্বে থাকা সাদিকুর রহমান চৌধুরী সহ সন্দেহভাজন অনেকে। মওদুদ আহমেদ তার Democracy and the Challenge of Development বইয়ে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর সাদিকুর রহমান কর্তৃক জোরপূর্বক আব্দুস সাত্তারকে পদত্যাগে বাধ্য করার কথা উল্লেখ করেছেন। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ'ও অভিযুক্তের তালিকায় ছিলেন। জিয়া হত্যার বিষয়টি এরশাদ জানতেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। জিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে খালেদা সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করলেও তিনি সরব হন সহানুভূতির পেতে।

জিয়া হত্যার পর ঢাকঢোল পিটিয়ে জাতীয় টেলিভিশনে ছেড়া গেঞ্জী আর ভাঙা স্যুটকেসের কল্পিত কাহিনী প্রচার করা হয়। কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয় এই বাবদ। ১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ খালেদা জিয়াকে গুলশানে ৩০ কাঠা ১১ ছটাকের একটি বাড়ি ও শহীদ মইনুল হোসেন রোডে ২ একর ৭২ শতাংশের বাড়ি প্রদান করেন।  ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট জমা দেয়া হয় খালেদা জিয়ার পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য। ছেলেদের লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ, ২টি গাড়ি, ড্রাইভার, এপিএস সহ প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ সুবিধা ভোগের ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নির্বাহের ব্যবস্থা করা হয়।

খালেদার সঙ্গে জিয়ার সম্পর্ক ভালো ছিল না তা অনেকেরই জানা। তারেক ও কোকোকে প্রহার করা নিয়েও খালেদার সঙ্গে তর্ক হতো বলে জনশ্রুতি ছিল। তাই বিভিন্ন প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে জিয়া হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আসলে কে, সে সম্পর্কে রহস্য থেকেই যায়। যে রহস্যের জট আজও খোলেনি।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক খালেদা জিয়া কেন কখনো জিয়া হত্যার বিচার চান নি বা বিচার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন নি? দুবার ক্ষমতায় থাকার পরও কেন তিনি জিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করলেন? 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়