ঢাকা, রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

মোংলা-খুলনা রেলপথের অগ্রগতি ৯৮%

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৭, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌবন্দর মোংলার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, রেলপথের প্রায় ৯৮% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোংলা-খুলনা রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে মোংলা বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কারণ শুধু সারাদেশের সঙ্গে নয়, রেলপথটি আন্তর্জাতিক রেল রুট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “আমরা চলতি মাসেই (সেপ্টেম্বর) কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করছি। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।”

ট্রানজিট সুবিধার আওতায় ভারত, নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহন সহজ করতে খুলনার ফুলতলা রেলস্টেশন থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।

২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রথম দফায় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১,৭২১ কোটি টাকা।

প্রকল্পের কাজ তিন ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে রূপসা নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণ, মূল রেললাইন স্থাপন এবং টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং স্থাপন। ২০১১ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা শেষ করতে পারেননি।

নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৮০১ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।

দ্বিতীয় দফায় সংশোধনের পর ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪,২৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো রূপসা নদীর ওপর রেলসেতুর নির্মাণকাজ করেছে। বাকি কাজ করেছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইরকন ইন্টারন্যাশনাল।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আরিফুজ্জামান বলেন, “করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও বিভিন্ন কারণে কাজ শেষ করতে সময় লেগেছে। দুই দফায় প্রকল্প সংশোধনের কারণে ব্যয় বেড়েছে ২,৫৩৯ কোটি টাকা। তবে তৃতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ব্যয় বাড়েনি। আশা করছি এবার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হবে।”

মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ মিঠু বলেন, “মোংলা-খুলনা রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। বর্তমান সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগের জন্য যেমন পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে, তেমনি নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “মোংলা-খুলনা রেলপথে ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য যেমন কম খরচে মোংলা বন্দর থেকে পরিবহন করা যাবে, তেমনি রপ্তানিও করা যাবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি বাড়বে।”

বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেন, “রেললাইনটি ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে চিংড়ি ও গার্মেন্টস পণ্য পরিবহন সহজ হবে।”

সর্বশেষ
জনপ্রিয়