ঢাকা, রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানোর আগেই সুমাইয়া হয়ে গেলেন সহকারী জজ!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ২৩ এপ্রিল ২০২২  

সুমাইয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

সুমাইয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

ছোটবেলা থেকেই সবারই স্বপ্ন থাকে কেউ ডাক্তার হবে, কেউ ইঞ্জিনিয়ার আবার কেউবা শিক্ষক। সবারই থাকে আলাদা আলাদা স্বপ্ন। তবে এসব থেকে একবারেই ব্যতিক্রম তিনি। ছিলো না নির্দিষ্ট কোনো কিছু হবার স্বপ্ন। সময় যখন যা ডিমান্ড করবে, তখন সেটাই হবেন- এমন ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে স্নাতকে ভর্তি হোন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানোর আগেই হয়ে গেলেন সহকারী জজ! বলছিলাম চতুর্দশ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া সুমাইয়া নাসরিনের কথা।

সুমাইয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তর (এলএলএম) অধ্যয়নরত। তিনি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজনীন খাতুন এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (অব.) আবুল কালাম আজাদ দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষ্মীকোল গ্রামে সুমাইয়ার জন্ম। স্থানীয় আরএন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপর লক্ষ্মীকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন। পরে বড়াইগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০১০ সালে জেএসসিতে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ এবং ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। একই স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে ২০১৩ সালে মাধ্যমিক (এসএসসি) পাস করেন। 

পরে ভর্তি হোন রাজশাহী কলেজে। সেখান থেকে ২০১৫ সালে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হোন। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

প্রথম স্থান অধিকার করা সুমাইয়া নাসরিন বলেন, আমার এই অসাধারণ সফলতার পেছনে পরিবার ও বিভাগের শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমি প্রথম হব, এমনটা প্রত্যাশা ছিলো না। আমার টার্গেট ছিল মেধা তালিকায় নাম আসলেই হবে।

সুমাইয়া আরো বলেন, আমার কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিলো না। আমি বড় হয়ে এই হব বা ওই হব। সময় যখন যা ডিমান্ড করবে, তখন সেটাই করবো। তবে যেহেতু বিচারকের লাইনে এলাম, তাই সব সময় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব। বিচারবঞ্চিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়ে সব সময় প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান থাকবে।

নাসরিন পড়াশোনার বিষয়ে বলেন, নিয়মিত পড়ালেখার বিকল্প নেই। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ে ধারণা থাকতে হবে। তবেই সফলতা আসবে।

সুমাইয়ার এমন সফলতায় খুশি তার মা-বাবা। তার বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেয়ের এমন সাফল্যে আত্মীয় স্বজন ছাড়াও অনেকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের মেয়ে সব চাপের ঊর্ধ্বে থেকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়