ঢাকা, রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

কোটা আন্দোলনের নেপথ্যে ছাত্র শিবির?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৭, ১০ জুলাই ২০২৪  

কোটা আন্দোলনের নেপথ্যে ছাত্র শিবির?

কোটা আন্দোলনের নেপথ্যে ছাত্র শিবির?

যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার কথা মনে আছে? কাদের মোল্লাকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আর এই দণ্ডাদেশ পছন্দ করেনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের জনগণ। আর তার প্রতিবাদে গঠিত হয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চ এবং এই আন্দোলনের মুখে শেষপর্যন্ত আইন পরিবর্তন করে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল সরকারকে। রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের মাধ্যমে কাদের মোল্লার দণ্ড সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছিল। শাহবাগের সেই গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। সেই আন্দোলনের ফসল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা ঘরে তুলতে পারেনি। শাহবাগের এই গণ জাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রতিপক্ষ হিসেবে সংঘটিত হয় হেফাজত এবং তারা ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার উদ্দেশ্যে লং মার্চ করে এবং এই লং মার্চের মাধ্যমে তারা কার্যত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাহবাগ মঞ্চে যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জাগরণ সেই জাগরণকে নস্যাৎ করে দেয়। 

এবার যে কোটা বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই কোটা বিরোধী আন্দোলনকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, কাদের মোল্লার বিচারের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যই যেন একটি মহল সক্রিয় হয়েছে। ঠিক একই অবস্থায় তারা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল গ্রহণ করছে। কোটা বিরোধী আন্দোলনে সারা দেশে নেতৃত্ব এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে, ছাত্র শিবিরের কর্মীরাই এই কোটা বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের খোঁজখবর দিচ্ছেন। 

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, তারা সামনের দিকে রেখেছেন কোন রকম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কিছু শিক্ষার্থীকে। কিন্তু সারা দেশে এই আন্দোলনের পুরো নেটওয়ার্কটি ছাত্র শিবিরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালেও কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেটওয়ার্ক ছাত্র শিবির কর্তৃক পরিচালিত হয়েছে। ছাত্র শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে এবং সেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা নিজেদের যে সমস্ত ছাত্র পরিচিত, যার গ্রহণযোগ্যতা আছে তাদেরকে বাছাই করে নেতৃত্বে আনছে। কিন্তু এই আন্দোলনের নাটাই আসলে শিবির হাতে। সারা দেশের কোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং কার্যক্রমগুলো বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। 

উল্লেখ্য যে, ইসলামী ছাত্র শিবিরের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক গ্রুপ রয়েছে। এই ধরনের গ্রুপগুলোতে কোটা আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে যে কথাবার্তাগুলো হচ্ছে আন্দোলনের মাঠে সেই কথাবার্তা গুলোরই প্রতিফলন ঘটছে। এ থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, কোটা আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্র শিবিরের সরাসরি এবং প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও কোটা বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা এ ধরনের বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন যে, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি। বিশেষ করে কোটা বিরোধী আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিরোধী যে ক্ষোভ এবং মনগড়া বক্তব্যগুলো আসছে সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একটা বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে এই আন্দোলনের পিছনে একটা প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সময় যে গণজারগণ হয়েছিলো কোটা ইস্যুর মাধ্যমে শিবির সেই ধরনের পাল্টা একটি প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চায়। সে কারণেই কোটা আন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধা বিরোধিতা, স্বাধীনতা বিরোধিতা সহ নানা রকম জঙ্গি এবং যুদ্ধাপরাধীদের স্বপক্ষের অবস্থানকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়