ঢাকা, রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

কৃতিত্বের ২ যুগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:২৫, ৯ জুলাই ২০২৪  

কৃতিত্বের ২ যুগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

কৃতিত্বের ২ যুগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের দক্ষিণবঙ্গে অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। দেখতে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৩ বছর শেষে ২৪ বছরে পদার্পণ করেছে। দুই যুগের এ যাত্রায় শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুড়িয়েছে নানা সম্মাননা। বিশ্ববিদ্যালয়টির শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। 

জানা গেছে, বাংলাদেশের যেসব জেলায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই- এমন ১২টি বৃহত্তর জেলায় ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে ৬টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়, যার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের পর স্থান নির্বাচন, জমি অধিগ্রহণ (৫৫ একর) এবং জমি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

২০০১ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণীত হয়। একই বছরের ১৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ১৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের ১৫ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর গোপালগঞ্জ, রংপুর ও রাঙ্গামাটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

২০০২ সালের ১৫ এপ্রিল তৎকালীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়েই জাতির জনকের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করে। পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালের নভেম্বরে স্থগিত প্রকল্পটি পুনর্জীবিত করা হয়। ২০১০ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং ২০ জানুয়ারি ২০১০ এ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসআরও জারি করে। এরপর ২০১০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৪ বছর মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয় এবং ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪-তে মেয়াদ শেষ হয়। ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় উপাচার্য ১ অক্টোবর ২০১৯ এ তৃতীয় উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) এবং ২ সেপ্টেম্বর ২০২০ চতুর্থ উপাচার্য নিয়োগ হয়। 

অবকাঠামোগত অবস্থা:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর একনেকে ৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়। শিক্ষা প্রকৌশল দফতরের তত্ত্বাবধায়নে অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, দেওয়া হয়েছে দ্রুত গতির ইন্টারনেট (ব্রডব্যান্ড ও ওয়াইফাই) সংযোগ।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি করতে গড়ে তোলা হয়েছে ল্যাংগুয়েজ ল্যাব। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য একনেকের সভায় পাসকৃত ২৫০ কোটি টাকার রিভাইজড অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে শহিদ মিনার, ১০তলা একাডেমিক ভবন-২, ছাত্র ও ছাত্রীদের ২টি হল, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন, কর্মচারীদের কোয়ার্টার, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, মেইন গেট ও সাবগেট, অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরি ভবনের সম্প্রসারণ, দৃষ্টিনন্দন জলাধার, জিমনেশিয়াম, পুকুর খনন ইত্যাদি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ৭০০ কোটি টাকার তৃতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেট পাসের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একাডেমিক কার্যক্রম:
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসে ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে ৫ বিভাগে ১৬০ শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী (শিক্ষক ৩১৪ জন, কর্মকর্তা ১৫৯ জন, কর্মচারী ২৩৬ জন) নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অনার্স, মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষা ও গবেষণাকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। এর মধ্যে নেপাল, সোমালিয়া এবং নাইজেরিয়া থেকে প্রায় ১২৮ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছেন। লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বইয়ের পাশাপাশি ব্রাউজিংয়ের জন্য ১২০টি কম্পিউটার রয়েছে। এছাড়াও ২০১৬ সাল থেকে ইএমবিএ কোর্সের কার্যক্রম চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একিউএম মাহবুব বলেন, বর্তমান সরকার উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে, যে শিক্ষানীতির ফলে তৈরি দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ শুধু দেশের সম্পদই নয়, বিশ্বেরও সম্পদ হতে পারে। তাই দক্ষ প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও অন্যান্য বিষয়ের গ্রাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেষ্টা করব।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়