ঢাকা, সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:০৯, ২৪ জানুয়ারি ২০২৩  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ডলারের দাম বৃদ্ধি ডেকে এনেছিল মহাসংকট। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর পরিণতিতে ছুটতে থাকে মূল্যবৃদ্ধির পাগলা ঘোড়া। গত বছর দুনিয়ার প্রায় সব দেশেই বাড়তে থাকে ডলারের দাম। করোনাকালে একবার টাকার বিপরীতে ডলারের দাম হ্রাস পাওয়ার নজির স্থাপিত হলেও বিগত বছরে নাস্তানাবুদ অবস্থার শিকারে পরিণত হয় বাংলাদেশের মুদ্রা টাকা। এর প্রভাবে নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে থাকে হু হু করে। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়েও ধস নামে। আশার কথা, ডলারের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা থেমে গেছে। 

মার্কেট ইনসাইডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম ৯ মাসে বিশ্ববাজারে ডলারের দাম ১৭ শতাংশের বেশি বাড়লেও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর শেষ তিন মাসে দাম পড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। এই দরপতন এ বছরও অব্যাহত থাকবে। আশা করা হচ্ছে, ডলার ফিরে যাবে আগের অবস্থানে। সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুদ্রাবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দাম কমছেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান মুদ্রা ইউরোর বিপরীতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে ডলারের মূল্য। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি কমছে। এতে স্পষ্ট যে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার কমাতে পারে। কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ থেকে সরে আসবে তারা। এতে ডলারের দরপতন ঘটছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে ডলারের দাম হ্রাস পেয়েছে ০. ৫৬ শতাংশ। পাউন্ডপ্রতি মূল্য নিষ্পত্তি হয়েছে ১.২২১৯৫ ডলারে। জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ২.৭ শতাংশ শক্তি হারিয়েছে ডলার। এক ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৯.৩৫ ইয়েনে। চীনের অফশোরে ইউয়ানের বিপরীতে ডলারের মূল্যমানও কমেছে। প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ৬.৭৩৩১ ইউয়ানে। দেশে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন ১০৩ থেকে ১০৭ টাকায় ডলার বিক্রি হচ্ছে। খোলাবাজারেও ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। মতিঝিল ও পল্টনের মানি এক্সচেঞ্জে খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ড বিক্রয়মূল্য ছিল ১২০ টাকা পর্যন্ত। এ সময় ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৩ সালের শুরুতে সুসংবাদ দিল দেশের তৈরি পোশাক খাত। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের রপ্তানি আয়ে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি। এতে ডলারের সংকটও কেটে যাবে বলে আশা রপ্তানিকারকদের। 

রপ্তানি উন্নয়ন বু্যরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২২ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে রেকর্ড পরিমাণ ৫৩৬ কোটি ৫১ লাখ ৯০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এক মাসের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরেও ৪৯০ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। এ বছর নভেম্বরে প্রথমবারের মতো এক মাসের রপ্তানি আয় ৫০০ কোটির ঘর ছাড়ায়। এই হিসাবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৯.৩৩ শতাংশ বেড়েছে। ডিসেম্বরে ৫৪২ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। তাতে রপ্তানির অর্জন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১.০৩ শতাংশ পিছিয়ে থাকল। নতুন বছরের শুরুতে প্রবাস আয়ে ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৩ দিনে ৯২ কোটি ৮৬ লাখ (৯২৮ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৯ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার। বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৩ সালে ডলারের আরও পতন দেখা যাবে। কারণ ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি আর কঠোর করবে না, বরং কিছুটা শিথিল করার আলামতই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুদ্রাবাজারে ইউরোর বিপরীতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে ডলারের মূল্য। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাতে পারে। কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ থেকে সরে আসতে চাচ্ছে তারা। আর এর ফলেই ডলারের দরপতন ঘটছে। বাংলাদেশে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন ১০৩ থেকে ১০৭ টাকায় ডলার বিক্রি হচ্ছে। খোলাবাজারেও ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। মতিঝিল ও পল্টনের মানি এক্সচেঞ্জে খোলাবাজারে প্রতি ডলার ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগেও ছিল ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। ডলারের দাম হ্রাস পাওয়ায় হুন্ডির প্রবণতা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গম, চিনি, ভোজ্য তেলের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও কমবে। কয়েক মাস ধরে দেশে যে সর্বনাশা ডলার সংকট চলছে তার সমাপ্তিও ঘটবে। গুজব ছড়িয়ে যারা দেশের অর্থনীতিতে ধস নামানোর ষড়যন্ত্রে হাত পাকাচ্ছিল তাদের স্বপ্ন ভেস্তে যাবে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও তা ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আশা করা যায়। 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়